পহেলগামে জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করল ভারত। ২২ এপ্রিলের ঘটনার তিন সপ্তাহের মাথায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনা। এই প্রত্যাঘাতের নাম ‘অপারেশন সিন্দুর’। ইতিমধ্যেই এই নাম নজর কেড়েছে সকলের। সকাল থেকেই মুখে মুখে আলোচনা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোর চর্চা। পহেলগামের ঘটনার পর কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কেন এই অপারেশনের এই নামকরণ।
সেখানে জঙ্গিরা বেছে বেছে ধর্মের নিরিখে হত্যালীলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় মোট ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেদিনের সেই ভয়াবহ হামলা অন্তত ২৫ জন ভারতীয় নারীর সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়েছে, তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রিয়জনেরা দাবি করেছিলেন, সন্ত্রাসীরা মাথায় সিঁদুর দেখেই গুলি চালাচ্ছিল।
নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন নৌবাহিনীর সদস্য শুভম দ্বিবেদী, যিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনে কাশ্মীর গিয়েছিলেন। বিয়ের মেহেন্দির রং তখনও তার স্ত্রীর হাতে স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এক মুহূর্তেই স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাথার সিঁদুর মুছে গিয়েছিল ।
হিন্দু নারীদের কাছে এই সিঁদুর কেবলমাত্র একটি প্রথা নয়, এটি তাদের বিবাহিত জীবনের পবিত্র চিহ্ন এবং সীমন্তিনীর প্রতীক। পহেলগাঁওয়ের হামলায় যেন এই পবিত্র প্রতীককেই নির্মমভাবে নিশানা করা হয়েছিল।
তাই ভারতীয় সেনার এই পাল্টা অভিযানের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’ রাখা হয়েছে। এটি কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, যারা সেইদিন হিন্দু নারীদের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার একটি প্রতীকী প্রকাশ। মাথার সিঁদুর মুছে দেওয়ার এই নৃশংসতার প্রতিশোধই যেন এই অভিযানের নামের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর যে আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘OPERATION SINDOOR’ কথাটি বিশেষভাবে নজরে আসে। এখানে ‘SINDOOR’ শব্দের দুটি ‘O’ অক্ষরের মধ্যে একটি ‘O’-এর জায়গায় সিঁদুর ভরা একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এই চিত্রায়ণ নামকরণের পেছনের গভীর তাৎপর্যকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং হামলার পেছনের কারণকে স্পষ্ট করে দেয়।
সব মিলিয়ে, এই প্রতীকী নামকরণ কেবল দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে ভারত তার নাগরিকদের উপর হওয়া যেকোনো আঘাতের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।







