টানা দুদিনের ঘনঘটা বৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলার মানকানালির গন্ধেশ্বরী নদী যেন রুদ্র রূপে ফেটে পড়েছে। বিপজ্জনকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠে গঙ্গার মতোই বয়ে চলেছে এই নদী। আর তারই প্রভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মানকানালি সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই তিন থেকে চার ফুট উঁচু জল প্রবল স্রোতে বইতে শুরু করে সেতুর উপর দিয়ে। এরপরই সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে এক ধাক্কায় জেলার প্রাণকেন্দ্র বাঁকুড়া সদর শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মানকানালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি গ্রাম। এই এলাকাগুলোর হাজার হাজার মানুষ জীবনের প্রতিটি পরতে—চিকিৎসা, শিক্ষা, রোজগার—নির্ভর করেন বাঁকুড়া শহরের উপর। এখন সেই শহরটাই হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্নের দূরত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সেতুর সংস্কার বা বিকল্প রাস্তার দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিল, কিন্তু প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি। এবার প্রকৃতির রোষে সেই অব্যবস্থার নগ্ন চেহারা ধরা পড়ল জনতার চোখে।
সাধারণ মানুষের যাতায়াত, বাজার-হাট, স্কুল-কলেজ এমনকি হাসপাতাল—সবকিছুই আজ স্থবির। একদিকে নদীর জলোচ্ছ্বাস, অন্যদিকে প্রশাসনিক উদাসীনতা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে মানকানালির মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ত্রাণ বা বিকল্প রাস্তার কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।
এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে, আদৌ কবে মিলবে স্বস্তি—তা জানে না কেউই।







