২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন শমীক ভট্টাচার্য। আর প্রথম বক্তৃতাতেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাতে কার্যত বিরোধী মহাজোটের ডাক দিলেন তিনি। শমীক বলেন, “যার যা পতাকা আছে, কিছুদিনের জন্য সেটা আলমারির ওপরে তুলে রাখুন। পথে নামুন, তৃণমূলকে সরান।” এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নয়া বিতর্ক।
শুভেন্দু অধিকারীর ‘হিন্দু বাঁচাও’ বার্তার সঙ্গে যখন কট্টর হিন্দুত্বের রোডম্যাপ স্পষ্ট, তখন শমীকের সংখ্যালঘুদের প্রতি বার্তা এক অন্য রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপির লড়াই কোনও মুসলিম বা সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে নয়।” পাশাপাশি তিনি সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বলেন, “দুর্গাপুজো ও মহরমের মিছিল একই রাস্তায় শান্তিপূর্ণভাবে যাক—এই চাই।”
এই অবস্থান কি বিজেপির ভিতরে ‘নরম-গরম’ নীতি বা বাজপেয়ী-আডবাণী ধাঁচের মিশ্র রাজনীতি? তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কংগ্রেস ও সিপিএম ইতিমধ্যেই শমীকের ‘মহাজোট’ বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায়ের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে বিজেপি বড় হয়েছে। এখন সেই দলের সভাপতির মুখে বিরোধী ঐক্যের বুলি। এটা রাজনৈতিক ভণ্ডামি।”
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপিকে সবচেয়ে বেশি মদত দিয়েছে তৃণমূল। ২০১৪-র আগে পর্যন্ত তৃণমূল রাজ্যে দাঁড়াতেই পারছিল না।”
তৃণমূলও পাল্টা আক্রমণে নামছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মন্তব্য, “বিজেপির ভেতরে গুপি গাইন-বাঘা বাইন চলছে। একজন হিন্দু হিন্দু বলছে, আরেকজন সংখ্যালঘুদের বার্তা দিচ্ছেন। শমীকের শত্রুই ওঁর নিজের দলে।”
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—বিজেপির অভ্যন্তরে সত্যিই বিভাজন চলছে, না কি এ কেবল কৌশল? শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপি কি সত্যিই এক নতুন ভোট কৌশলে এগোতে চাইছে, যেখানে কট্টর এবং মধ্যপন্থার মিশ্রণ থাকছে?
২০২৬ সালের ভোটে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তার উত্তর দেবে সময়ই।







