অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হওয়া বিতর্কের মাঝে এবার কঠোর বার্তা দিল কেন্দ্র। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে পাকিস্তান ও চীনের সক্রিয় প্রচার ও মিথ্যে প্রচারের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য-প্রমাণ সামনে এনেছে ভারত।
বিতর্কের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল, অপারেশন সিঁদুরে ভারত সত্যিই কি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে পেরেছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর এসেছে মাসুদ আজহারের পরিবারের কফিন তরফে। এবার পাকিস্তান থেকেই যার ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, আদমপুর বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি হামলায় আদৌ কোনো ক্ষতি হয়েছিল কি না। এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছায় বিমানঘাঁটিতে। তারপরেই এই বিতর্ক নীল স্পষ্ট বার্তা দিলেন। পাশাপাশি প্রশ্ন ছিল, অপারেশন সিঁদুরে ভারত কতগুলি রাফায়েল যুদ্ধবিমান হারিয়েছে? এ বিষয়ে রাফায়েল নির্মাতা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র একটি বিমান প্রযুক্তিগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পাকিস্তানের হামলায় নয়।
ভারতীয় বায়ুসেনার রাফায়েল ব্যবহারের কৌশল নিয়েও সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মার্কিন বায়ুসেনার এক প্রাক্তন ফাইটার পাইলটের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, ভারত ‘গার্ড-এক্স’ নামে একটি অভিনব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাফায়েল জেটকে রীতিমতো অদৃশ্য করে দিয়েছিল শত্রুর রাডার থেকে। এই প্রযুক্তিতে একটি ‘ডেকয় পড’ ব্যবহৃত হয়, যা শত্রুপক্ষের রাডারকে বিভ্রান্ত করে। পাকিস্তান সেই পডকেই রাফায়েল ভেবে ধ্বংস করে দাবি করে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। যেই তথ্য পুরোপুরি মিথ্যে ছিল।
অন্যদিকে চীনও রাফায়েলের ক্ষমতা নিয়ে ভয় পেয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে অপপ্রচারে শুরু করে। ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে জানা গেছে, চীনের দূতাবাসগুলি বিভিন্ন দেশে রাফায়েলকে দুর্বল দেখানোর জন্য মিডিয়াতে পরিকল্পিত প্রচার শুরু করেছে। এমনকি গ্রিসে ধরা পরে চীনের গুপ্তচরচক্র। গ্রিসের বিমানঘাঁটির কাছে থেকে গ্রেফতার হয় ৪ চীনা নাগরিক, যাদের ফোন ও ল্যাপটপ থেকে রাফায়েল সম্পর্কিত স্পষ্ট ছবি ও তথ্য মেলে। তাদের বিরুদ্ধে এখন গুপ্তচরবৃত্তির মামলা চলছে।
চীনের বিমানবাহিনীর প্রধানের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরও ছিল অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত কৌশল বোঝার জন্য, সেই কথা চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিজেরাই স্বীকার করেছে।
চীনের বিমানবাহিনীর প্রধানের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরও ছিল অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত কৌশল বোঝার জন্য—এ কথা চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিজেরাই স্বীকার করেছে।
এই সব তথ্য প্রমাণই বলে দেয়, অপারেশন সিঁদুর শুধু সফল নয়, বরং তা চীন-পাকিস্তানকে কৌশলগতভাবে হতবাক করে দিয়েছে। যারা এখনো পর্যন্ত ভারতীয় সেনার বীরত্বকে প্রশ্ন করছেন, তাদের জবাব দিয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জে জে সিং। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন সেনার উদ্দেশ্য যখন শত্রুকে উঠে দাঁড়াতে না দেওয়া, তখন তাদের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিজেরই জাতীয় গৌরবকে অপমান করার সমান।
এ প্রসঙ্গে জেনারেল জে জে সিং জানিয়েছেন, ‘আমরা জেতার জন্য লড়াই করি এবং নকআউট করে জিতি কারণ যুদ্ধে কোনো রানার্স-আপ নেই’।







