রাজনীতি

‘ধনখড়কে হুমকি দিয়ে ইস্তফা নিতে বাধ্য করা হয়েছিল!’ বিস্ফোরক অভিযোগ কল্যাণের

সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তিকে কি হুমকি দিয়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে? এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড় নিজে ইস্তফা দেননি, তাঁকে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে!

কল্যাণের অভিযোগ:

“রাত ৯টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে ইমপিচ করা হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল ধনখড়কে। সংবিধান মেনে কাজ করতেন বলেই মোদীর চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি।”

মোদীকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ বলেন:

“উনি (ধনখড়) প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনেননি, তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। এমনকি ৫০ জন সাংসদকে রাজনাথ সিংয়ের ঘরে বসিয়ে ইমপিচমেন্টে সই করানো হয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে রাজনাথ সিং-কে উপরাষ্ট্রপতি করার পরিকল্পনা চলছে।”

বিজেপির পাল্টা:
বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের জবাব,

“কল্যাণবাবু দ্বিচারিতা করছেন। গতকাল বললেন শারীরিক অসুস্থতা, আজ বলছেন হুমকি! দিদির ধমকেই বোধহয় মত বদলেছেন!”

পর্দার আড়ালে যা ঘটেছে?
সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা চমকে দেয় সবাইকে। একাধিক সূত্র দাবি করছে, বিচারপতি ভর্মার বিরুদ্ধে বিরোধীদের ইমপিচমেন্ট নোটিস হঠাৎ গ্রহণ করাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিল কেন্দ্র। সরকারের পরিকল্পনা ছিল আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া, কিন্তু ধনখড় একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ফলে সংঘাত চরমে ওঠে।

তীব্র চাঞ্চল্যের কেন্দ্রে এখন ৩টি প্রশ্ন:

ধনখড় কি সত্যিই চাপের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন?

রাজনাথ সিং কি হচ্ছেন পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি?

বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সরকার বনাম ধনখড় সংঘাতের পরিণতি কী?

রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা—‘সংবিধান বনাম কেন্দ্র’, নাকি ‘রাজনৈতিক নাটক’?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.