মুর্শিদাবাদ — কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন—তিনি নিজেই স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। আখতার অভিযোগ করেছেন, আরজি কর মেডিক্যালে ব্যাপক দুর্নীতি আছে; সেই অভিযোগ তোলার পর থেকেই তিনি সরকারি প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ইনি পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আখতার আলি তার পদত্যাগপত্রে বলেছেন, “চাকরিটা আমি মর্যাদার সঙ্গে করি। কিন্তু আমার ডিপার্টমেন্টই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। আমি আরজি কর নিয়ে মুখ খুলেছি—এটাই আমার ‘অপরাধ’। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি; তারপর থেকেই আমাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হচ্ছে, ছুটি মঞ্জুর হচ্ছে না, স্টেশন লিভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমার কোনও বেনিফিট নেই, আমার ছুটি অনুমোদিত নয়। আমি আমার পরিবারে গিয়ে থাকতে পারছি না।”
এছাড়া আখতার দাবি করেন, তিনি প্রথম জন, যিনি আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন—আর সেই অভিযোগের পরই তার বদলি ও চাকরিজীবনে নানা বাঁধার শিকার হওয়া শুরু হয়। গত আগস্টে তিনি আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন বলে জানা গেছে; তিনি বলেছেন, মুখ খোলা ও আইনি পথে যাওয়া তার জন্য বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া এনে দিয়েছে—“তাঁরা আমাকে রাজ্য সরকার বিরোধী মনে করে সারাবছর ঘোরাচ্ছে, বদলি করছে; এমনকি আমার পেনশন নেওয়া নিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়েছে” — মত তার।
আখতার আরও বলেন, “তাহলে কি ওদের জোরটা শুধু আমার উপরই? ওদের আর কোথাও দুর্নীতির উপরে জোর নেই। আমাকে কোরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে—গৌণভাবে বলছেন, ‘খুব বেশি হলে শেষ করে দেবে’। তবু বাংলার মানুষ আমার সঙ্গে আছে; আমি এখনও বলছি—গভীর দুর্নীতি আছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আখতারের বক্তব্যে আরজি কর মেডিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে নানা ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, একটি প্রার্থীর পার্সোনাল সিকিউরিটি হিসেবে থাকা ব্যক্তি—আখতার খান—কীভাবে সুবিধা-সহ-ভোগ হয়েছে, তারও বর্ণনা দিয়েছেন। (উল্লেখ্য—এই সব অভিযোগই আখতারের পক্ষ থেকে করা; এখনো আদালত বা তদন্তে ঠিক কী মিলেছে, সে সম্পর্কে সরকারি ভাষ্য পাওয়া যায়নি।)
স্বাস্থ্য দফতরের কোনো অফিস থেকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া মেলেনি। হাসপাতাল প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি—তবে কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ইতিপূর্বে আখতারকে বিভিন্ন স্থানে বদলি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী ছুটি, স্টেশন লিভ ইত্যাদি মঞ্জুরির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে এবং সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে—তবে এই কথাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানিক রাজনৈতিক মহল ও চিকিৎসা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ইস্যুতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, অভিযোগটি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ব্যাবস্থায় বড় ধরনের প্রশ্ন উঠবে; অন্যদিকে, অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও কর্মজীবন সংক্রান্ত বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে।
স্থানীয় পাঠকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট তথ্য—এই খবরের সবকটি দাবি এবং অভিযোগ বর্তমানে আখতারের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে; দফতরের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল রিপোর্ট বা তদন্তের ফল প্রকাশিত হলে সেটিও আমরা পরবর্তী সংখ্যায় তুলে ধরবো।







