বুধবার দুপুরে প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর বিধান ভবনে দেখা গেল নজিরবিহীন অস্থিরতা। প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে আভ্যন্তরীণ ক্ষোভ এবারে প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত। বালিগঞ্জ আসনে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্রকে টিকিট দেওয়ার বিরোধিতা করে বিক্ষোভে সামিল হন বহু কংগ্রেস কর্মী। এরপরই শুরু হয় তীব্র হাতাহাতি—হাত থেকে লাঠি, ধাক্কাধাক্কি থেকে রণক্ষেত্র। এক কর্মীর মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে বলেও অভিযোগ। এমনকী, এক মহিলা কর্মীকে মাটিতে ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এন্টালি কেন্দ্রের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার সময় বিধান ভবনে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা অসিত মিত্র—যিনি নিজেও এই নির্বাচনে টিকিট পাননি। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও প্রশ্ন রয়ে গেল—দলের এই অন্তর্কলহ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
সবচেয়ে বিস্ময়কর, গোটা সংঘর্ষের সময় প্রদেশ নেতৃত্বের কাউকেই দেখা যায়নি। ক্ষুব্ধ কর্মীরা সরাসরি প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, “টাকা নিয়ে বালিগঞ্জের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে”। একই সঙ্গে দাবি ওঠে—এটাই বহুদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
কংগ্রেস এখনও শ্রীরামপুরে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, কিন্তু সেখানেও ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ওই আসনে প্রার্থী হতে পারেন প্রদেশ সভাপতি নিজেই—তার আগেই অসন্তোষ চরমে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন ঘোষণার পর সবশেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। গত ২৯ তারিখ একাধিক হেভিওয়েট নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে বালিগঞ্জে রোহন মিত্রকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী কর্মীদের দাবি—রোহনের একাধিকবার তৃণমূল ও বিজেপির সভায় উপস্থিত থাকার ছবি রয়েছে। তাই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ তাঁরা।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের মুখে প্রদেশ কংগ্রেসে এই দ্বন্দ্ব দলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ধাক্কা আনবে কি?
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।







