এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না। ফুটবলপ্রেমীদের যে পরিমাণ রোমাঞ্চ উপহার দিলেন পেরিসিচ-মদ্রিচরা, তাতে স্পষ্ট—ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া, দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে ছিল বদ্ধপরিকর।
ডালাসে অনুষ্ঠিত এই ছয় গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় সাকা-রাশফোর্ডদের ইংল্যান্ড। তবে হারলেও ক্রোয়েশিয়ার লড়াকু মানসিকতা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন সমর্থকেরা। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও উত্তেজনা।
ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিজের বক্সে মাদুয়েকেকে ফাউল করেন অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচ। প্রথমবার পেনাল্টি নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন হ্যারি কেন, তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। তবে VAR-এ দেখা যায়, শট নেওয়ার আগে গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। ফলে পুনরায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি কেন।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সর্বাধিক পাঁচ গোলের নজির গড়েন তিনি। তবে ক্রোয়েশিয়াও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ৩৬ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার দুরন্ত শটে সমতা ফেরে ম্যাচে।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ মিনিটে দেক্ল্যান রাইসের কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হ্যারি কেন। এর ফলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ, যা গ্যারি লিনেকারের রেকর্ডের সমান।
তবে নাটক তখনও বাকি। ইভান পেরিসিচের বাড়ানো বল থেকে অসাধারণ ভলিতে জর্ডন পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সমতা ফেরান পেতার মুসা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে জ্যুড বেলিংহ্যামের গোলে ৩-২ এগিয়ে যায় তারা। এরপর ধীরে ধীরে আক্রমণের ধার হারাতে থাকে ক্রোয়েশিয়া।
তবু আলাদা করে উল্লেখ করতেই হবে ডমিনিক লিভাকোভিচের নাম। একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে প্রায় একাই দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। পুরো ম্যাচে প্রায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক, যার মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধেই ছিল চারটি।
শেষদিকে ৮৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে ৪-২ করে ইংল্যান্ড। তাতেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। তবু হারলেও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই, মনোবল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার খেসারতই দিতে হয়েছে তাদের।







