বাজারে হঠাৎ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেরই ধারণা ছিল, আখের চিনি ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করার কারণেই বাজারে চিনির জোগান কমছে এবং দাম বাড়ছে। কিন্তু সেই ধারণা খারিজ করে দিল কেন্দ্র। সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে ইথানল উৎপাদনকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখাটা ঠিক নয়।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল প্রায় ৪৮.১৮ টাকা। এক মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ২০ অগস্টে প্রায় ৫৫.৭০ টাকায় পৌঁছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে মূলত উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, উৎসবের আগে বাড়তি চাহিদা এবং মজুতদারির মতো একাধিক কারণ রয়েছে।
দেশে আগে প্রায় ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের অনুমান করা হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আখের জমিতে রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টনে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির দাম বেড়েছে। প্রতি টন চিনির দাম ৪৭৪ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৫৫২ ডলারে পৌঁছেছে। আগামী মরশুমে বিশ্ববাজারে চিনির ঘাটতির আশঙ্কাও রয়েছে।
ইথানল নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য, ২০২২-২৩ সালে ইথানল তৈরিতে প্রায় ১২ শতাংশ চিনি ব্যবহার হলেও ২০২৫-২৬ সালে সেই হার কমে প্রায় ৯ শতাংশ হয়েছে। বর্তমানে ইথানলের বড় অংশই ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি হচ্ছে। ফলে শুধু ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়াকেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলা যাবে না বলে জানিয়েছে সরকার।
দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের মজুতের উপরও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুতের উপর বিধিনিষেধ থাকছে।
কেন্দ্রের দাবি, নতুন আখের মরশুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। ফলে আপাতত ইথানল নয়, বরং উৎপাদন ও বাজারের একাধিক কারণকেই চিনির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র।






