ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অবশেষে শূন্যের গেরো কাটিয়েছে সিপিএম। মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান রানা। আর এবার সোশাল মিডিয়ায় দলের একাংশের ‘ফেসবুক বিপ্লবী’দের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক। তাঁর সেই পোস্টকে ঘিরেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সোশাল মিডিয়ায় রানা লেখেন, “বেশি জ্ঞান না দিয়ে নিজের নিজের বুথগুলো দেখুন বিপ্লবী কমরেডরা। নিজের বুথে আপনি যে সিপিএম, এটা মানুষ জানে তো? তারপর সমালোচনা করবেন। আর আমি এবার ভোটে আমার গ্রামে ৩৫০ ভোট লিড দিয়েছি। একদম স্বাভাবিক ভোট হয়েছে।”
তবে ঠিক কাদের উদ্দেশে এই মন্তব্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মুস্তাফিজুরের দাবি, দলের কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিশানা করে তিনি এই পোস্ট করেননি। তাঁর কথায়, “এই পোস্ট কিছু ফেসবুক বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে। আমার মনে হল এটা দরকার। টিভি, ফেসবুকে মন না দিয়ে, এখন কর্মীদের বুথে বুথে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। তাই এই পোস্ট করা।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “আমারও যেমন এখন বুথের দিকে বেশি মন দেওয়া প্রয়োজন। তেমনই অন্যদেরও নজর রাখা উচিত।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি রিয়ালিটি শো-তে অতিথি হিসাবে দেখা গিয়েছিল সিপিএম বিধায়ককে। ওই অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র, বিজেপির বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি ও সজল ঘোষ এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
রিয়ালিটি শো-তে কেন তিনি অংশ নিয়েছিলেন, দলের অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন কি না—এমন একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল রানাকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ওই অনুষ্ঠান নিয়ে যাঁরা আপত্তি তুলেছিলেন, সেই ‘নীতিপুলিশ’দেরই সম্ভবত নাম না করে জবাব দিয়েছেন সিপিএম বিধায়ক।
আবার অন্য একটি মতও রয়েছে। সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ সোশাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করেন, যার সঙ্গে মাঠের বাস্তব রাজনীতির তেমন যোগ নেই। সেই কারণেই হয়তো বুথে গিয়ে সংগঠনের কাজে জোর দেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন মুস্তাফিজুর।
এরই মধ্যে রানার এই পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর দলবদলের জল্পনাও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। যদিও সেই সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ বিধায়ক। ফলে দলবদলের জল্পনায় আপাতত ইতি পড়লেও, ‘ফেসবুক বিপ্লবী’দের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সিপিএমের অন্দরে যে জোর চর্চা চলছে, তা স্পষ্ট।







