ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ফের বিতর্কে পাকিস্তান ক্রিকেট। ম্যাচের পরই দলের কোচিং স্টাফ এবং ক্রিকেটারদের নিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং ব্যাটিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দল থেকে বাদ পড়েছেন আরও সাত ক্রিকেটার। এরই মধ্যে ব্যাটার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে চোট নিয়ে ‘নাটক’ করার অভিযোগের তদন্তের খবরও সামনে এসেছিল।
তবে এবার অন্য এক কারণে হাসির খোরাক হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। জানা গিয়েছে, জনপ্রিয় চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট LinkedIn-এ ফিল্ডিং কোচ নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়েছে PCB। বিজ্ঞাপনে প্রার্থীর জন্য কয়েকটি যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কোচিংয়ের ক্ষেত্রে লেভেল-২ ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অথবা প্রথম সারির কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অন্তত পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়েছে।
এই বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল মজা। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এমন পরিস্থিতি যে শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিং কোচের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও LinkedIn-এ চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে হচ্ছে—এই বিষয়টিকেই কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ।
একজন মজা করে লিখেছেন, পাকিস্তান দলের অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ ব্যবস্থার এমন দশা হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত সিভিও যেন শেষ হয়ে গিয়েছে! অন্য এক নেটিজেন লিখেছেন, আবেদন করে ফেলাই যায়, কে বলতে পারে কী হয়—যদিও তিনি গত ১৩ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। আবার আরেকজন নিজের ‘যোগ্যতা’ জানিয়ে লিখেছেন, তিনি এই পদের জন্য আগ্রহী, কারণ সম্প্রতি তিনিও দু’টি ক্যাচ ফেলেছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এক নেটিজেনের তৈরি মজার সিভি। পুরো বিষয়টিই হাস্যরসের মোড়কে সাজিয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, ‘ভাই, বল কই গেল’ বলার পাশাপাশি আক্ষরিক অর্থেই ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে তাঁর আট বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকী প্রতি ক্যাচ মিস করার পর কত ধরনের অজুহাত দেওয়া যায়, সেই অভিজ্ঞতার কথাও সিভিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর কী ধরনের মুখভঙ্গি করতে হয়, সেই দক্ষতার কথাও বাদ যায়নি।
অবশ্য ফিল্ডিং কোচের পদটি নতুন কোনও পদ নয়। গত জুলাইয়ে শেন ম্যাকডারমট পদত্যাগ করার পর থেকেই পাকিস্তান দলের কোনও স্থায়ী ফিল্ডিং কোচ নেই। সেই শূন্যপদ পূরণ করতেই এবার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে PCB। কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই তা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মিম, ট্রোল এবং নানা রসিকতা।







