দেশ

“TCS ছাঁটাই: ১২ হাজার গুজব, আসল খাঁড়া কি পড়বে ৩০ হাজারে?” গোটা দেশজুড়ে আশঙ্কার ছায়া

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (TCS)–এর কর্মী ছাঁটাই ঘিরে আইটি খাতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছিল, বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যার ২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার জনকে চাকরি থেকে সরানো হবে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ইউনিয়নের অভিযোগ, প্রকৃত সংখ্যা তার থেকেও অনেক বেশি। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার কর্মী এই সিদ্ধান্তের জেরে প্রভাবিত হতে চলেছেন।

মঙ্গলবার এই দাবিকে সামনে এনে দেশের একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভে সামিল হন আইটি ও আইটিইএস কর্মীরা। সিটু (CITU)–র সমর্থনে আয়োজিত এই আন্দোলনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন প্রতিবাদীরা। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অভিযোগ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদেরই বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকেছেন, তারাই ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এর ফলে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহ ছড়াচ্ছে কর্মীদের মধ্যে।

UNITE-র যুগ্ম সভাপতি চন্দ্রশেখর আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “যারা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদেরই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু কর্মী নয়, গোটা টিমের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে।”

যদিও টিসিএসের তরফে ইউনিয়নের অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কেবলমাত্র ২ শতাংশ কর্মীই ছাঁটাইয়ের আওতায় আসবেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টিসিএসের কর্মীসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত মাসেই টিসিএস জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ক্লাউডভিত্তিক পরিষেবাকে সামনে রেখে সংস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যে কর্মীরা নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, কেবল তারাই ছাঁটাইয়ের মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে আর্থিক সাহায্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর থেকেই কর্মী মহলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। কর্নাটক সরকার এবং কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই টিসিএসের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.