বিদেশ

ক্যারিবিয়ান সাগরে ফের মার্কিন সেনার অভিযান, প্রমাণ ছাড়াই হামলার অভিযোগ

ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে ফের বিতর্কিত সামরিক অভিযানে নামল আমেরিকা। সম্প্রতি এক হামলায় ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি জাহাজ তিন জন প্রাণ হারিয়েছে। এমনকি ওই জাহাজ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি আমেরিকার। যদিও এখনও পর্যন্ত এই দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

মার্কিন সেনা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মোট ৩৮টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এই সব অভিযানে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন। প্রতিবার আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছে, নিশানায় থাকা ভেসেলগুলি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে নিহতদের পরিচয় বা জাহাজগুলিতে আদৌ মাদক ছিল কি না, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক হামলায় আক্রান্ত জাহাজটি ‘মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত সমুদ্রপথ’ ধরে চলছিল বলে জানা গেছে আমেরিকার সাদার্ন কমান্ড সমাজমাধ্যম সূত্রে। সেই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিয়োও সামনে আনা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় সমুদ্রে ভাসমান একটি জাহাজে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। তারপরেই সেখানে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনাতেই ৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসিথ সম্প্রতি দাবি করেন, এই ধরনের অভিযানের ফলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে কয়েকটি বড় মাদক চক্র অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষেও কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে আমেরিকা কার্যত ‘সশস্ত্র সংঘর্ষে’ জড়িয়েছে। তাই মাদক-সন্ত্রাস দমনে এই সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে তাঁর মত। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌসেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। পাশপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ জেনারেল ফোর্ড ওই এলাকায় রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের অনুমান মাদক পাচার দমনের নামে মার্কিন অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.