রাজ্যে সরকার ও রাজভবন সংঘাত বারংবার খবরের শিরোনামে শোনা গেছে। সেখানেই বাংলার রাজ্য সরকার বহুবার সরব হয়েছে কি ভাবে দিনের পর দিন বিল আটকে রাখছে রাজ্যপাল। এবার সেই বিষয়টাই উঠে এলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে। রাষ্ট্রপতি আর অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও বিল আটকে রাখতে পারবেন না বলে স্পষ্ট বার্তা আদালতের। মঙ্গলবার এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে রায় সুপ্রিম কোর্টের।
এই রায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে। এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর.এন. রবির বিরুদ্ধে ডিএমকে সরকারের মামলায় তাঁর পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘খামখেয়ালি’ বলে মন্তব্য করেছিল আদালত। সেই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে রেফারেন্স পাঠান।
প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সুর্যকান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি পি.এস. নারসিমা ও বিচারপতি এ. চন্দুরকর। সেই পর্যবেক্ষণে সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে মতামত চাইবার অধিকার দিলেও, সেই পথে আগের কোনও রায় খারিজ করা যায় না। তাই আদালতের ১২ এপ্রিলের রায় বহাল থাকবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের পদ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন, তাই আদালতের হস্তক্ষেপের কোনো রকম প্রয়োজন নেই। তবে তামিলনাড়ু ও কেরল সরকারের যুক্তি, যদি প্রেসিডেন্টের রেফারেন্সের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন হয়, তবে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাই নিয়ে উঠেবে প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে কোনও রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি আর অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও বিল ঝুলিয়ে রাখতে পারবেন না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হয়েছে।







