নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও মজবুত করতে ফের বড় সাফল্য পেল ভারত। ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে সফলভাবে পরীক্ষা করা হল অগ্নি-১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের। স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে হওয়া এই উৎক্ষেপণ সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মহল।
সম্প্রতি পাকিস্তানের ফতেহ মিসাইল পরীক্ষার পরই ভারতের এই পদক্ষেপকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষার সময় অগ্নি-১ নির্ধারিত পথ অনুসরণ করে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত ক্ষমতাও এই পরীক্ষায় সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।
অগ্নি-১ একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ৭০০ থেকে ১,২০০ কিলোমিটার। এক টন পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত ও পরমাণু— দুই ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে খুব কম সময়ে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় সুবিধা দেয়।
২০০৪ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অগ্নি-১ বর্তমানে দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত মোতায়েন এবং নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র তৈরি অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অগ্নি-১ এর মতো অস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত আবারও স্পষ্ট বার্তা দিল, দেশের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।







